মানুষের হৃদয়কে মহান আল্লাহ তায়ালা এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন যে, এটি পৃথিবীর কোনো ধন-সম্পদ, খ্যাতি বা ভালোবাসায় পরিপূর্ণ তৃপ্তি পায় না; যতক্ষণ না সে তার রবের সাথে যুক্ত হয়। আমরা যখন আল্লাহর থেকে দূরে সরে যাই, তখন আমাদের ভেতরে এক অজানা শূন্যতা ও হাহাকার তৈরি হয়। রবের সাথে ছিন্ন হওয়া এই সম্পর্ক পুনরায় জুড়ে দেওয়া এবং তাঁর নৈকট্য লাভ করা খুব কঠিন কিছু নয়। আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার জন্য সবসময় অধীর অপেক্ষায় থাকেন। নিচে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আল্লাহর সাথে দ্রুত সুসম্পর্ক গড়ার কিছু কার্যকরী ও হৃদয়স্পর্শী উপায় আলোচনা করা হলো:
আল্লাহর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের প্রথম দরজা হলো 'তওবা' বা ফিরে আসা। আপনার গুনাহের পাহাড় যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর রহমতের সাগর তার চেয়ে অনন্ত গুণ বড়। শয়তান আমাদের হতাশ করে বোঝায় যে, "তোর দ্বারা আর হবে না।" কিন্তু আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত মমতার সাথে ডাক দিয়ে বলেন:
আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো সালাত বা নামাজ। নামাজ শুধু কোনো রুটিন কাজ নয়, এটি হলো রবের সাথে বান্দার সরাসরি প্রাইভেট মিটিং। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত চমৎকার একটি কথা বলেছেন:
দিনের বেলায় আমরা সবাই আল্লাহকে ডাকি, কিন্তু রাতের গভীরে যখন পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকে, তখন যে ব্যক্তি শুধু তাঁর রবের ভালোবাসায় বিছানা ছাড়ে, আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা অকল্পনীয়।
প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং ডাকতে থাকেন, "কে আছো আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেব? কে আছো আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব?" (সহীহ মুসলিম)। দ্রুত সম্পর্ক গড়তে চাইলে সপ্তাহে অন্তত ২/১ দিন তাহাজ্জুদের জায়নামাজে চোখের পানি ফেলার অভ্যাস করুন। আপনার আর আল্লাহর মাঝের সমস্ত পর্দা এই চোখের পানি ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেবে।
যার সাথে আমাদের সম্পর্ক ভালো থাকে, আমরা সবসময় তার কথাই স্মরণ করি। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গভীর করতে চাইলে উঠতে-বসতে, চলতে-ফিরতে সব অবস্থায় তাঁকে স্মরণ করতে হবে।
আল্লাহর প্রেম পেতে হলে তাঁর সৃষ্টির প্রতি দয়ালু হতে হবে। মানুষের উপকার করুন, কারো মনে কষ্ট দেবেন বিন্দু পরিমাণও, সাধ্যমতো দান-সদকা করুন এবং রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জমিনবাসীদের প্রতি দয়া করো, আসমানওয়ালা (আল্লাহ) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।"
আল্লাহর সাথে সম্পর্ক একদিনে তৈরি হয় না, এটি একটি ধারাবাহিক সাধনা। আজই, এই মুহূর্ত থেকেই শুরু করুন। একটি সুন্দর ওজু করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন এবং আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করুন। দেখবেন, আপনার জীবনের সমস্ত হতাশা কেটে গিয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি আপনার হৃদয়কে ভরিয়ে দিয়েছে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় ও নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিন। আমিন।
WhatsApp us