
হজ্জ একটা আরবি শব্দ, এটা মুসলমানদের ধর্মিয় একটি উপাসনার নাম, আমরা জানি ইনলামের মূলস্তম্ভ ৫ টি জিনিসের উপর, তন্মধ্যে হজ্জ হলো ৪র্থ তম অবশ্য-পালনীয় একটি ধর্মিয় বিধান। যা হিজরী সনের আরবি ১২ মাসের মধ্যে সর্বশেষ মাস তথা জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ থেকে ১৩ তারিখের মধ্যে পালন করতে হয়। ভৌগলিক মানচিত্র হিসাবে বাংলাদেশের দক্ষিন পাশ্চিম কোনে অবস্থিত সৌদি আরব। হজ্জ করার জন্য সৌদি আরবের মক্কা নগরি ও তার আশেপাশের আরাফাত, মুযদালিফা ও মিনা প্রভৃতি স্থানে গমন ও বিশেষ বিশেষ সময় অবস্থান করত কিছু কার্য সম্পাদনা করতে হয়। হজ্জের সমস্থ নিয়ম কানূন শেষ করার পর এ লোকটিকে বলা হয় আলহাজ্জ বা হাজী।হজ্জ সমগ্র বিশ্বের মুসলমানদের জন্য একটি বার্ষিক তীর্থযাত্রা যা প্রতি বছরান্তে একবার হয়।মুসলমানেরা এটাকে সারা বিশ্বের সমস্থ মুসলমানদের ভাতৃত্বের এক উত্তম নিদর্ষণ বলে মনে করেন,গোটা পৃথিবীতে একই সময়ে এতো বড় মিলনায়তন ও এত লোক সমাগম এক অদ্বিতীয় নিদর্ষণ।
পৃথিবীর আদি ও প্রথম মানব হযরত আদম আঃ এর এ ধরায় পদার্পণের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিল এ ধরিত্রীর শুভযাত্রা কিন্ত আক্ষেপের বিষয় হল; দুনিয়ায় আসার পর তারা উভয়ে একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন, দীর্ঘ সময় আতিবাহিত হওয়ার পর একপর্যায়ে তারা উভয়ে মক্কার আরাফাত ময়দানে মিলিত হন এর কৃতজ্ঞতা সরুপ হাজ্জিরা আরাফাত ময়দানে উপস্থিত হয়ে দু‘আ ও কান্নাকাটি করে ইবাদতে মগ্ন হয়।বর্তমান সময়ে হ্জ্জের আবশ্যকীয় বিষয়াবলির একটি হলো আরাফার ময়দানে উপস্থিত হওয়া।
পৃথিবীর বুকে সে সময় হযরত আদম নামে যে মানুষ ছিলেন তিনি একজন নবী ছিলেন তিনারও একটি ধর্ম ছিল,একদা আল্লাহর নির্দেশে হযরত আদম আঃ মক্কা নগরিতে কাবার ভিত্তি স্থাপন করেন যে স্থানটি ছিল আল্লাহ কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত। সে সময় হযরত আদম আঃ এর সন্তানরাই তিনার উম্মত ছিলেন তাদের কে এ কাবার তওয়াফ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।হযরত আদম আঃ পৃথিবীর প্রথম মানব যিনি সর্বপ্রথম কাবা শরীফে হজ্জ পালন করেন।তিনার পর হযরত নুহ আঃ পর্যন্ত এ বিধান অন্যান্য নবী রাসূলগন পালন করেন।কিন্তু নূহ আঃ এর সময়ের প্লাবনের কারণে কা‘বা ও তার চারপাশ পূর্ণরুপে বিলিন হয়ে পরে।যার ফলে কাবার নির্দিষ্ট ন্থান নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পরে,বিধায় কাবা পূনঃস্থাপন করা অসম্ভব হয়ে ওঠে।
উষার আলোহীন এমনি এক সময় মুসলিম উম্মাহের জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম আঃ আল্লাহ তা‘লার নির্দেশে তিনার স্ত্রী হাজেরা ও শিশু বাচ্চা ইসমাঈল আঃকে মক্কার নির্জন মরূভূমিতে রেখে এসেছিলেন,পাথেওহীন মরু প্রন্তরে একদা পিপাসার্ত বাচ্চার হলকুম ভিজানর জন্য জনমানবহীন মরুর সফা ও মারওয়ার মরীচিকাকে পানি মনে করে মাতা হাজেরা সফা ও মারওয়ায় একাধিকবার সজোরে পদচারণ করেছিলেন!তাইতো আজো হাজিদের জন্য এ পাহাড়দ্বয়ের সায়ী করাকে জরুরে করে রাখা হয়েছে।পিপাশিত বাচ্চা ও ভগ্নহৃদয় মায়ের আহাজারি ও দোয়ার ফেলেই আল্লাহ তা‘আলা শিশু ইসমাঈলের নাজুক পর্দাঘাতে আল্লাহ তা‘আলা বরকতময় জমজম পানির শুভারাম্ভ করেছিলেন যা অদ্যাবধি পর্যন্ত গোটা মক্কা নগরিতে বহমান।ঘটনাকাল চলমান অবস্থায় হযরত ইবরাহীম আঃ আল্লাহর নির্দেশে আদম আঃ কর্তৃক নির্মিত কাবা ঘরের পূর্ব ভিতের উপর পূনরায় কাবার নির্মাণ কাজ চালু করেন।আর এটাইছিল কাবার দিত্বীয় নির্মাণ।
হয়রত ইবরাহিম আঃ এর জামানা থেকেই হজ্জ ফরজ ঘোষনা করা হয়,যেমনটি এক বর্ণনায় এসেছে যে কাবা ঘর বানানর পর অল্লাহ তা‘আলা হযরত ইবরাহীমকে নির্দেশ দেন যে তুমি হজ্জ ফরজ হওয়ার ঘোষনা দেও। আল্লহর নির্দেশে তিনি মক্কার কোবাইস পাহাড়ে আরোহণ করেন ও দুই কানে আঙ্গুল রেখে এ ঘোষনা দেন যে হে মানুষ সকল তোমাদের পালনকর্তা নিজ গৃহ নির্মান করেছেন তোমাদেরে উপর এ গৃহের হজ্জ ফরজ করা হয়েছ। বর্নিত আছে যে আল্লাহ তা‘আলা এ ঘোষনা সারা দুনিয়ার মানুষের কান পর্যন্ত পৌছে দিয়েছিলেন এবং সকলেই এ কথা শুনতে পেরেছিল।তাইতো আজো হজ্জের বিভিন্ন নিয়ম কানূন ও আচার আচরণ হযরত ইবরাহীম আঃ এর সাথে সম্পর্কযুক্ত।ইবরাহীম আঃ কাবার যে ভিত্তিস্থাপন করেছিলেন তার স্থায়িত্ব ছিল ৪ হাজার বছর।
রাসূল সাঃ বয়স যখন ৩৫ বছর তখন এক মহিলা কাবার গ্লাফে আগুন লাগিয়ে দেয়,এর পরপরই এক প্লাবনের কারনে কাবার দেওয়াল ভেঙ্গে যায়,তখন সবার সম্মতিক্রমে কাবার কাজ ৩য় বারের মতো শুরু করা হয় ও উন্নতি সাধন করা হয়।৪০ বছর বয়সে অল্লাহর নবী নবুয়াতী পান ও ইসলাম ধর্মের সুচনা হয়।
মুহাম্মাদ সাঃ এর উম্মত তথা ইসলামে হজ্জ ফরজ করা হয়েছে হিজরীর ৯ম বা ১০ম সালে তখন থেকে কেয়ামত পর্যন্ত সকল বিত্ববান মানুষের উপর জীবনে একবার হজ্জ করা ফরজ। আর বিত্ববান না হলেও হজ্জ করা যাবে তখন এ হজ্জ নফল হজ্জ হবে।
হজ্জের শাব্দিক অর্থ হলো ইচ্ছা করা,দৃঢ় সংকল্প করা.মহত ও সম্মানিত জিনিসের ইচ্ছাপোষণ করা।
পরিভাষায় হজ্জ বলা হয়ঃ-
যার নিকট মক্কা শরীফ যাওয়া ও হজ্জ করে ফিরে আসা পর্যন্ত পরিবারের সাভাবিক খরচ-খরচা ও নিজের মক্কায় আসা যাওয়ার মোটামুটি খরচ পরিমাণ সম্পদ আছে এমন ব্যক্তির উপর হজ্জ করা ফরজ।
হজ্জের সমর্থ হলেই হজ্জ করা ফরজ হয়,তবে সাথেসাথে ফরজ নয়!! (বরং সমর্থবান হওয়ার পর সাথেসাথে হজ্জ করা ওয়াজিব,বিধায় বিলম্ব করা ঠিক নয়। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো বর্তমান সময়ের মানুষ বিত্তবান হওয়ার সাথেসাথে হজ্জ করেনা বরং একটা সময়ের অপেক্ষা করে!! যেমন অনেকে মনে করে যে মাত্র কিছু টাকা হলো তো তা এখনই হজ্জ করে শেষ করলে বাকি জীবন চলবো কি করে?? বিধায় আরো কিছু কামিয়ে নেই!! অনেকে ভাবে আরে এখনো বিয়েই করিনি তো অমি হজ্জ করলে হজ্জ হবে নাকি? আমার ছেলে মেয়ের এখনো বিয়ে হয়নি তো বিয়ে দিয়ে নেই তারপর হজ্জ করবো,অনেকে ভাবে একটু বয়স হোক তারপর হজ্জ করবো ও একবারে নামায কালাম শুরু করবো।
অবশ্য হজ্জ কিছু বিলম্ব করে করার অবকাশ রয়েছে তবে বিনা কারণে বিলম্ব করা পাপ!! হজ্জ ফরজ হওয়ার পর যদি কেউ করতে বিলম্ব করে আর এর মধ্য সে দরিদ্র হয়ে যায় বা তার টাকা পয়সা হাত থেকে বের হয়ে যায়,তার পরেও তার উপর ঐ হজ্জ ফরজই থাকবে,যেখান থেকেই হোক টাকা যোগার করে হজ্জ সম্পন্ন করতে হবে। এমতাবস্থায় মারা গেলে তার উত্তরসূরিদের তার পক্ষ থেকে বদলি হজ্জ করতে হবে। যদি সে অসিয়ত করে থাকে।
হজ্জের ফরজ তিনটি
ইহরাম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হজ্জের পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে হজ্জের নিয়ত করা ও সেলাইবিহীন দুই টুকরা সাদা কাপড় পরিধার করা,অতপর তালবিয়া পাঠ করা। যে স্থানে ইহরাম বাধতে হয় তাকে মিকাত বলা হয়।মিকাত থেকে শুরু করে বাইতুল্লাহর তওয়াফ ও সফা মারওয়া সায়ী থেকে নিয়ে মাথা মুন্ডান হজ্জের শেষ কাজ করা পর্যন্ত এ নিয়ত অবস্থায় থাকার নামই হলো ইহরাম.আর যে এই নিয়ত করে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্থ বিধিবিধান পালন করে তাকে বলা হয় মুহরিম।
জিলহজ্জ মাসেন ৯ তারিখ সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়ার পর থেকে ১০ তারিখ সকাল পযর্ন্ত পূর্ণ রাত আরাফার খালি ময়দানে অবস্থান করা।
প্রথমবার কাবার নিকটবর্তী হলে কাবার দক্ষিন পূর্ব কোনা থেকে শুরু করে কাবার চারপাশ লাগাতার ৭ বার প্রদক্ষিন করাকে তওয়াফে যিয়ারত বলা হয়।
হাজ্জ করার জন্য গমনিচ্ছুকদের ইহরাম বাধার আগেই কিছু কাজ করে নিতে হবে আমরা তা যথাসাদ্ধ্য নিম্নে তুলে ধরছি।
لَبَّيْكَ ا للّهُمَّ لَبَّيْكَ – لَبَّيْكَ لاَ شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ – اِنَّ الْحَمدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ – لاَ شَرِيْكَ لَكَ
বিঃদ্রঃ মহিলদের জন্য চেহারা ঢাকা নিষেধ তার মানে এই নয় যে পর্দা ছেড়ে খোলামেলা ঘুরাফেরা করবে বরং এমন ব্যবস্থার আশ্রয় গ্রহন করবে যাতে করে মোটামূটি পর্দার বিধান ও পালন হযে যায়! আর এর একটা উত্তম মাধ্যম হলো কপালের উপর এমন কিছু বাধবে যার সাথে নেকাব লটকানো যায় যা চেহারা সাথে সাধরণ ভাবে মিলবে না। কিন্তু বর্তমান সময়ে এ বিষয়ে আমাদের মা বোনদের খুব বেশি উদাসিনতা দেখা যায়।
মারাকিয়ূল ফালাহ ২৮০ পৃঃ
মিকাত অর্থ নির্দিষ্ট সময় বা নির্দিষ্ট স্থান, সমগ্র বিশ্ববাসী হজ্জ করতে আসার সময় যখন তারা মক্কা অভিমুখে রওনা হয় তখন সকলের সামনে এমন একটি স্থান আসে যেখান থেকে তার হজ্জের নিয়ত করতে হয়,বা ইহরাম বাধতে হয়,আর সে স্থানটিকেই মিকাত বলা হয়।মিকাত মোট ৬ টি।
আমদের বাংলাদেশের হজগামীদের জন্য মিকাত হলো ইয়ালামলাম
আমরা জানি যে ইসলামে হজ্জের বিধান কে ফরজ করা হয়েছে,তবে তা একটা সময়-সাপেক্ষ ভাবে হয়ে থাকে,বিধায় আল্লাহর নবী সাঃ তিনার উম্মতদেরকে উমরার বিধান শিখিয়েছেন যা সবসময় করা যায় এবং একই দিনে একাধিকবার করা যায়, কিন্তু হজ্জের বিষয়টি এমন নয়,কেননা দূরদূরান্ত থেকে মানুষ হজ্জ করতে গেলে এক সাথে হজ্জ ও উমরাহ সবই করতে চায়,তাই হজ্জের মৌসুমে হজ্জ ও উমরার দিকে লক্ষ্য করে হজ্জকে মোট তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
হজ্জ তিন প্রকার.
হজ্জে ইফরাদঃ ইফরাদ শব্দের অর্থ আলাদা করা,পৃথক করা. শুধুমাত্র হজ্জের নিয়ত করে ইহরাম বাধা ও তার কার্যবলী সম্পাদন করাকেই হজ্জে ইফরাদ বলা হয়।
হজ্জে কেরানঃ কেরান শব্দের অর্থ মিলান সুতরাং যে হজ্জের মধ্যে হজ্জ ও উমরার ইহরাম একসাথে বাধা হয় তাকে হজ্জে কেরান বলা হয়।
হজ্জে তামাত্তুঃ তামাত্তু অর্থ উপভোগ করা,হজ্জের মাস সমুহের মধ্যে উমরা নিয়ত করে উমরার কাজ শেষ করা এবং তারপর হজ্জের নিয়ত করে হজ্জের কাজ শেষ করাকে হজ্জে তামাত্তু বলা হয়।
তিন প্রকার হজ্জের মধ্যে হজ্জে কেরান করাই সবথেকে ভলো,আতপর হজ্জে তামাত্তু অতপর হজ্জে ইফরাদ।কিন্তু সাধারণত বাংলাদেশের হাজি সাহেবরা হজ্জের যে মূল সময় (তথা জিল হজ্জ মাস)তার অনেক আগে হজ্জ করার জন্য মক্কা মুকাররমায় গমন করে থাকেন বিধায় দীর্ঘদিন ইহরাম অবস্থায় থাকা ও তার সমস্থ বিধিবিধান মেনে চলা অনেক দূরুহ ব্যাপার হয়ে দাড়ায়; বিধায় যারা অনেক আগেই মক্কা মুকাররমায় গমন করে থাকে তাদের জন্য হজ্জে তামাত্তুর নিয়তে ইহরাম বাধাই শ্রেয়।অবশ্য কেউ যদি জিলহজ্জ মাসে তথা হজ্জের বিশেষ দিনগুলোর সামান্ন্য কয়েকদিন আগে যাবার নিয়ত করে তাহলে তার জন্য হজ্জে কেরানের নিয়ত করাই ভালো।
উমরার শাব্দিক অর্থ হলো যিয়ারত করা,আবাদ করা,নির্মাণ করা, জনবহুল স্থানে ভ্রমন করা।
পরিভাষায় উমরা বলা হয়ঃ
তিন জিনিসের সমন্বয়কে উমরা বলা হয়।
উমরা;
রাসূল সাঃ মোট চারটি উমরা করেছেনে এমন বর্ণনা পাওয়া যায়।
হজ্জ;
আল্লাহর নবী কতটি হজ্জ করেছেন এ বিষয়ে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে মতানক্য রয়ছে।
অনেকে বলেছেন যে রাসূল সাঃ হিজরতের পূর্বে প্রতি বছর হজ্জ করেছেন, কিন্তু জমহুরের নিকট এ বিষয়ে কোনো সহী দলীল পাওয়া যায় না।তবে এ বিষয়ে সকলে একমত যে হিজরতের পর আল্লাহর নবী শুধুমাএ একটি হজ্জ করেছেন।
বদলী হজ্জের অর্থ হলো কারো স্থানে অন্য কাউকে হজ্জ করার স্থলাভিষুক্ত করা।আমরা জানি যে হজ্জ মুসলমানদের জন্য একটি ফরজ ইবাদত যা পালন করা আবশ্যক কিন্তু তদুপরি অনেক সময় দেখা যায় কিছু প্রতিকুল অবস্থা শিকার হয়ে অনেকের জন্য হজ্জ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না!! তাই বলে তো আর এটা মাফ হতে পারে না! ইসলামের সকল বিধান পালন করাই ফরজ তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটা বিধান পালন সম্ভব না হলে ইসলাম তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রেখেছে যেমন ধরুন নামায ও রোযা যে বা যারা কোনো কারন বশত এ বিধান পালন করতে না পারল তাদের জন্য এর বিকল্প ব্যবস্থা হলো ফিদয়া প্রদান করা।কিন্তু হজ্জের বিষয়টি আলাদা কেননা এর জন্য ফিদয়া গ্রহণযোগ্য নয়। অবশ্য হ্যাঁ এর জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে আর তা হলো বদলী হজ্জ।
কার জন্য ও কিভাবে বদলী হজ্জ করা যাবে এ বিষয়ে সামনে তুলে ধরা হলো।
এ ধরনের মানুষ যদি মরার আগে ওসিয়ত করে থাকে তাহলে তার ওয়ারিছদের তার পক্ষ থেকে বদলী হজ্জ করাতে হবে।
ইসলমী বিধানে হজ্জ ও উমরা এ দুটির অনেক গুরুত্ব রয়েছে বিধায় খুব খেয়াল ও য্বত্ন সহকারে এ বিষয়গুলির সমাপন করা দরকার,তদুপরি ইচ্ছা না থাকা স্বর্তেও মাঝেমাঝে হাজি সাহেবদের থেকে কিছু ছোটখাট ভুল হয়ে যায় যার দরুন এ মহৎ ইবাদত ত্রুটিযুক্ত হয়ে যায় বস্তুত যা কাম্য নয়!! সুতরাং এ ইবাদতকে কুলুসমুক্ত করার জন্য ইসলাম কিছু বিধিমালা প্রণয়ন করেছে যার নাম হলো “দম” বা সদকা” সাধাণত দম বলতে একটা পূর্ণ দুম্বা,গরু,বকরী বা ভেড়া বোঝায়।আর সদকা বলতে সাধারন সদকাতুল ফিতির(একটা ফিতরা)বোঝায়।
হজ্জের মধ্যে হাজি সহেবদের ইচ্ছানিচ্ছায় যে ভুল হয় তা দুই ধরনের (এক)এমন কিছু ভুল যার কারনে দম ওয়াজিব হয়।দুই এমন কিছু ভুল যার কারনে সদকা ওয়াজিব হয়। আমরা নিচে এ সর্ম্পকে বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরছি।
এ ধরনের আরো অনেক বিষয় আছে যা লক্ষ্য রেখে চলতে হবে।
এটি মক্কার একটি কবরস্থান একারে অনেক সাহাবা,তাবেয়ী ও বুযুর্গ কবরস্থ হয়েছে।
তথা মহানবী সাঃ এর জন্মস্থান এটি হারাম শরীফের পূর্ব চত্বরে অবস্থিত, বর্তমান সময়ে ঐ স্থানটিকে একটা পাছাগার বাননো হয়েছে।
এটি মক্কা নগরী থেকে তিন মাইল অদূরে দক্ষিন পূর্ব কোনে অবস্থিত
মক্কা শরীফ থেকে তিন মাঈল দূরে উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত একটি পাহাড়,যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২৮১ মিটার উচু। আর এ পাহাড়ের একটি গর্থকে বলা হয় গারে হেরা,এখানেই সর্বপ্রথম ওহি নাযিল হয়েছে এবং আল্লাহর নবী নবুয়াতি পেয়েছেন।
মুযদারিফা একটি ময়দানের নাম,মুযদালিফা অর্থ নিকটবর্তী বা রাতের বিশেষ একাংশ. জাহেলী যুগের লোকেরা এ স্থানে একত্রিত হয়ে বংশিয় গৈারবগাধা ও বীরত্ব বর্ননা করতো,কিস্তু ইসলামের জুগে এ স্থারটিকে আল্লাহর জিকির ও তিনার বড়ত্ব বর্ণনা করা শিক্ষা দিয়ে সেখানে সকল হাজিকে একত্রিত হয়।
আরাফাত শব্দের অর্থ মিলিত হওয়া ,পরিচিত হওয়া. কথিত আছে হযরত আদম আঃ এখানে হযরত হাওয়া আঃ এর সাথে মিলিত হয় এ জন্য এ স্থানকে আরাফাত ময়দান বলা হয়।
এখানে একটি মসজিদ রয়েছে যার নাম মসজিদে নামিয়া ।
মসজিদে হারাম থেকে ৭ কিঃ মিঃ দূরত্বে অবস্তিত একটি স্থানের নাম হল মিনা।এ স্থানের পশ্চিম দক্ষিন পাশে অবস্থিত মসজিদে খায়েফ। বার্ণিত আছে এখানে ৭০ জন নবীর কবর অছে।
জান্নাতুল মুআল্লার একটু সামনে উত্তর পূর্ব কোনে অবস্থিত একটি মসজিদ,এখানে জিনেরা হাজির হয়ে রাসূল সাঃ থেকে তেলওয়াত শুনেছে। অন্য এক বর্ণনায় আছে জিনেদের প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাত করতে যাওয়ার সময় আল্লাহর নবী নাঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাঃ কে এ স্থানে রেখে গিয়েছিলেন এ জন্য এ মসজিদের নাম মসিজিদে জিন।
মসজিদে হারাম থেকে মদিনা শরীফের রোডে ৭০৫ কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদ যেখান থেকে আয়শা রাঃ উমরার নিয়ত করেছিলেন,হাজি সাহেবেরা সাধারণত এখান থেকে উমরার নিয়ত করে থাকেন।
এটা একটি পাহাড়,মসজিদে হারামের দক্ষিণ পুর্ব পাশে অবস্থিত। যার কিছু অংশ কেটে কাবার চত্বরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। হযরত সূহ আঃ এর তুফানের সময় এ পাহাড়ের উপর হজরে আসওয়াদ রাখা হয়েছিল। মুজাহিদ রঃ এর এক বর্ণনায় আছে যে আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীতে যত পাহাড় বানিয়েছেন তার মধ্যে এটা প্রথম পাহাড়।
মদিনা শরীফের কবরস্থানের নাম জান্নাতুল বাকী,এটি মসজিদে নববীর সন্নিকটে পূর্বদিকে অবস্থিত।রাসূল সাঃ এর আহলে বায়াত,সাহাবায়ে কেরাম,তাবেয়ীন ও বিভিন্ন শুহাদায়ে কেরাম এখানে কবরস্থান রয়েছেন।হজ্জ করার প্রক্কালে এ কবস্থান যিয়ারত করা মুম্তহাব।
এহুদ পাহাড়ের পাদদেশে একটি কবস্থান যেখানে হযরত হামযা রাঃ,আব্দুল্লাহ ইবনে জাহাশ ও মুসাব ইবনে উমায়ের রাঃ সহ আরো ৭০ জন সাহাবীর কবর রয়েছে।
এটি মুসলমানদের প্রথমমসজিদ যা হিজরতের পর রাসূল সাঃ নিজ হাতে নির্মান করেছেন।সময় করে এ মসজিদ যিয়ারত করা সুন্নত.রাসূল রাঃ বলেছেন যে ব্যক্তি মসজিদে কোবায় এসে দুই রাকাত নামায আদাই করবে তাকে একটি উমরার সমতুল্য সুয়ওাব দেওয়অ হবে।
এ মসজিদটি কোবার পথের সান্নিকটে,মদিনায় আসার পর সর্বপ্রথম আল্লাহর নবী সাঃএ মসজিদে জুমার নামায আদাই করে ছিলেন।
হিজরতের পর মুসলমানরা বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায আদাই করত,একদা মদিনার এক মসজিদে নামায পড়াবস্থায় আল্লাহ তা‘আলা কেবলা পরিবর্তন করে কাবার দিকে নামায পড়ার নির্দেশ দেন আর এ নির্দেষ এ মসজিদে হয়েছিল বিধায় এ মসজিদকে মসজিদে কেবলাতাইন বলা হয়।
সালা পাহাড়ের নিচে পশ্চিম প্রন্তে একটা মসজিদ আছে যায নাম হলো মসজিদে ফাতাহ। এ মসজিদের আসেপাশে বিভিন্ন সাহাবাদের নামে প্রতিষ্ঠিত ৭ টি মসজিদ রয়েছে যেগুলোকে একত্রে মসেজিদে সাব‘আ বলা হয়।
মসজিদে নববীর দক্ষিন পষ্চিম কোনে অবস্থিত একটি মসজিদের নাম হলো মসজিদে গামামাহ,রাসূল সাঃ দুই ঈদের নামায এখানে আদাই করতেন।
মসজিদে গামামাহ এর উত্তর দিকে খুবই সন্নিকটে একটি মসজিদ আচে যেখানে হযরত আবুবকর রাঃ ঈদের নামায আদাই করে ছিলেন বিধায় এ মসজিদকে মসজিদে আবুবকর বলা হয়।
মাসজিদে গামামাহ এর সামান্য দক্ষিনে একটি মসজিদ আছে যেখানে হযরত ওমর রাঃ মাঝে মাঝে নামায আদা্ করতেন বিধায় এ মসজিদের নাম মসজিদে ওমর রাখা হয়েছে।
মসজিদুস সাজদাহ এটিই সে মসজিদ যেখানে আল্লাহর নবী সাঃ শুকরানা দীর্ঘ সেজদা আদাই করেছিলেন।কারন এখানে জিবরাঈল আঃ অহী নিয়ে এসেছিলেন যে যে ব্যক্তি অল্লাহর নবীর উপর দুরূদ পড়বে আল্লাহ তা‘আলাও তার উপড় দুরূদ পরবেন।যে আল্লাহর নবীকে সালাম দিবে আল্লাহ তা‘আলাও তাকে সালাম দিবেন।
এখানে আল্লাহর নবী সাঃ দুই রাকাত নামায আদাই করে তিনটা দু‘আ করেছিলেন যার দুইটি কবূল করা হয়েছিল ও একটি কবূল করা হয়নি। দু‘আ গুলি হলো
বদর যুদ্ধে গমনকালে আল্লাহর নবী সাঃ এখানে শুক্রবারে আসর ও মাগরিবের নামায আদাই করেন,এবং এখানে সেনা নির্বাচন করেন,ও ছোট দুই সাহবীকে ফেরত পাঠান।
বিঃ দ্রঃ
এ সকল মাসজিদগুলো যিয়ারতে গেলে শুধু দেখে চলে না এসে অন্তত দুই রাকাত নামায আদাই করা উত্তম।
নামঃ মুহাম্মদ ইউনুছ আলী
ইফতাঃ দারুল আরকাম মাদরাসা, কামরাঙ্গীচর (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ)।
তাকমিলঃ জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ)।
চলমান শিক্ষাঃ
বি,এ,অনার্সঃ তোলারাম কলেজ, নারায়ণগঞ্জ।
ফাজিলঃ ঢাকা আলিয়া, বখশি বাজার।
ইমামঃ নজরুল অয়েল মিলস্, কাঁচপুর।
সিনিয়ার শিক্ষকঃ জামিয়াতুশ শুহাদা দেওয়ানবাগ মাদরাসা, নারায়ণগঞ্জ।
মোবাইলঃ +৮৮০১৯৯৬-১০৩৪৩৫
ই-মেইলঃ mmyounusali@gmail.com
কপিরাইট © ২০২৪ ইসলামী শরীয়াহ্ অর্গানাইজেশন. সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত. ব্যবহারবিধি ও স্বত্বাধিকার আইন.