বরাবর: মুহতারাম প্রধান মুফতী সাহেব দা.বা.
বিষয়: রোযার কাফফারা প্রসঙ্গে।
সমস্যা: আ: আজীজ ভাই একজন দ্বীনদার মানুষ। প্রতি বছরেই সে রোযা রাখে। কিন্তু এ রমযানে সে ইচ্ছাকৃত রোযা ছেড়ে দিয়েছে। রোযা না রাখার কারণ জানতে চাইলে সে বলল, আমার অনেক টাকা পয়সা আছে। আর যেহেতু রোযা রাখতে কষ্ট হয়, তাই আমি রমজান শেষে ৬০ মিসকিনকে দু বেলা করে খাবার খাইয়ে দিব।
জিজ্ঞাসা: মুহতারাম প্রধান মুফতী সাহেবের জানার বিষয় হল, সে কি রোযা না রেখে ৬০ জন মিসকিনকে দু বেলা করে খাবার খাইয়ে দিলে তার কাফফারা আদায় হবে না? দলিল সহ জানতে চাই। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।
সমাধান: উপরোক্ত আ: আজীজ যদি ইচ্ছাকৃত রোযা না রাখে তবে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব। আর রোযার কাফফারার ক্ষেত্রে যে, নির্দেশনা কুরআনে রয়েছে সে হিসেবে তার জন্য প্রথম করণীয় হল, একটি বাঁদী আজাদ করতে হবে। যদি সে বাঁদী আজাদ করতে সক্ষম না হয় তবে তার জন্য লাগাতার ৬০ দিন রোযা রাখতে হবে। আর যদি সে ৬০ দিন রোযা রাখতে না পারে, তৃতীয় স্তরে আসে ৬০ মিসকিনকে দু বেলা করে খাবার খাওয়ানোর পন্থা।
বর্তমানে আমরা দেখতে পাই যে, গোলাম-বাঁদী প্রচলন নিঃশেষ হয়ে গেছে। অতএব তাকে ৬০ দিন ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখতে হবে। সে যদি এর উপর সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও রোযা না রেখে ৬০ মিসকিনকে খাবার খাওয়ায়, অবশ্যই তার কাফফারা আদায় হবে না।
সে হিসেবে তার জন্য উত্তম হল, রমজানে রোযা রাখা। রমযানে রোযা না রেখে যদি সে রমজানের পরে কাফফারার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের উপর সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় স্তরকে গ্রহণ করে, অবশ্যই সে কাফফারা আদায়কারী বলে সাব্যস্ত হবে না।
আল-বিনায়া (৪/৩০৮), ফাতাওয়া তাতারখানিয়া (৫/১৮), ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ (৬/৪৪৭)।
WhatsApp us