Islami Sharia Logo
مركز الفقه الإسلامي بنغلاديش
মারকাযুল ফিকহ আল-ইসলামী বাংলাদেশ
Markajul Fiqh Al-Islami Bangladesh
পাইনাদী (দোনু হাজী রোড), মিজমিজি, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-১৪৩০
মোবাইল: ০১৯১৭-৬৫৫৮০৪, ০১৭৩৯-১৭৬৯৭৬
তারিখ: ২৪-০৭-১৪৩৮ হি. সূত্র নং: F-041 (অ্যালবাম-১)
প্রশ্ন (ইস্তিফতা)

বরাবর: মুহতারাম প্রধান মুফতী সাহেব দা.বা.

বিষয়: রোযার কাফফারা প্রসঙ্গে।

সমস্যা: আ: আজীজ ভাই একজন দ্বীনদার মানুষ। প্রতি বছরেই সে রোযা রাখে। কিন্তু এ রমযানে সে ইচ্ছাকৃত রোযা ছেড়ে দিয়েছে। রোযা না রাখার কারণ জানতে চাইলে সে বলল, আমার অনেক টাকা পয়সা আছে। আর যেহেতু রোযা রাখতে কষ্ট হয়, তাই আমি রমজান শেষে ৬০ মিসকিনকে দু বেলা করে খাবার খাইয়ে দিব।

জিজ্ঞাসা: মুহতারাম প্রধান মুফতী সাহেবের জানার বিষয় হল, সে কি রোযা না রেখে ৬০ জন মিসকিনকে দু বেলা করে খাবার খাইয়ে দিলে তার কাফফারা আদায় হবে না? দলিল সহ জানতে চাই। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।

— বিনীত নিবেদক: সানাউল্লাহ, নরসিংদী।
উত্তর (আল-জাওয়াব)

সমাধান: উপরোক্ত আ: আজীজ যদি ইচ্ছাকৃত রোযা না রাখে তবে তার উপর কাফফারা ওয়াজিব। আর রোযার কাফফারার ক্ষেত্রে যে, নির্দেশনা কুরআনে রয়েছে সে হিসেবে তার জন্য প্রথম করণীয় হল, একটি বাঁদী আজাদ করতে হবে। যদি সে বাঁদী আজাদ করতে সক্ষম না হয় তবে তার জন্য লাগাতার ৬০ দিন রোযা রাখতে হবে। আর যদি সে ৬০ দিন রোযা রাখতে না পারে, তৃতীয় স্তরে আসে ৬০ মিসকিনকে দু বেলা করে খাবার খাওয়ানোর পন্থা।

বর্তমানে আমরা দেখতে পাই যে, গোলাম-বাঁদী প্রচলন নিঃশেষ হয়ে গেছে। অতএব তাকে ৬০ দিন ধারাবাহিকভাবে রোযা রাখতে হবে। সে যদি এর উপর সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও রোযা না রেখে ৬০ মিসকিনকে খাবার খাওয়ায়, অবশ্যই তার কাফফারা আদায় হবে না।

সে হিসেবে তার জন্য উত্তম হল, রমজানে রোযা রাখা। রমযানে রোযা না রেখে যদি সে রমজানের পরে কাফফারার প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের উপর সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় স্তরকে গ্রহণ করে, অবশ্যই সে কাফফারা আদায়কারী বলে সাব্যস্ত হবে না।

তথ্যসূত্র ও দলিলসমূহ (الأدلة الفقهية)

১. আল-কুরআনুল কারীম (সূরা মুজাদালাহ: ৩, ৪): "وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا ذَلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ - فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ... الخ"
২. রদ্দুল মুহতার (৩/৪৪৭): "أو أكل أو شرب غذاء أو دواء عمداً ... قضى وكفر ككفارة المظاهر ، قوله : ككفارة المظاهر ، مرتبط بقوله : "وكفر" أي مثلها في الترتيب فيعتق أولاً ، فإن لم يجد صام شهرين متتابعين ، فإن لم يستطع أطعم ستين مسكيناً لحديث الأعرابي"
৩. শরহু মুখতাসারিত তাহাবী (২/৪১৯): "فصل : كفارة الفطر عمداً في رمضان ، قال أبو جعفر : والكفارة في ذلك : عتق رقبة يجزى فيها المؤمن وغير المؤمن ، فإن لم يجد : فصيام شهرين متتابعين ، فإن لم يستطع : أطعم ستين مسكيناً"
৪. ফাতহুল কাদীর (২/৩৪৫): "ولو أكل أو شرب ما يتغذى به أو يتداوى به فعليه القضاء والكفارة ، ... والكفارة مثل كفارة الظهار ، لحديث الأعرابي"
৫. আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাহু (২/৬০০): "أنواع الكفارة ثلاثة : عتق وصيام وإطعام ، مثل كفارة الظهار والقتل الخطأ عند الجمهور ، فإن عجز عن العتق بأن لم يجد رقبة فصيام شهرين متتابعين فإن لم يستطع صوم أطعم ستين مسكيناً"
৬. ফাতাওয়া উসমানী (২/১৭৮): "قوی اور تندرست آدمی کے لئے کوئی کفارہ اور فدیہ نہیں ہے ان روزہ رکھنا ہی فرض ہے کفارہ ایسے بوڑھوں کے لئے ہے جو کمزوری کے سبب روزہ نہ رکھ سکتے ہوں اور ان میں قوت دوبارہ آنے کی امید نہ ہو ایسے بوڑھے ایک روزہ کے عوض پونے دو سیر گندم یا اس کی قیمت صدقہ کریں"
৭. আহসানুল ফাতাওয়া (৪/৪৩৪): "اگر مسلسل ساٹھ روزے رکھنے کی قدرت نہیں تو ایک مسکین کو ۱۲۰ مرتبہ گندم کی قیمت ساٹھ روز تک دے یا ساٹھ مسکینوں کو ایک ہی دن میں دیدے، ہر مسکین کو ۱/۲ ۲ کلو گیہوں کی قیمت"
৮. অন্যান্য:

আল-বিনায়া (৪/৩০৮), ফাতাওয়া তাতারখানিয়া (৫/১৮), ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ (৬/৪৪৭)।