বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

বিষয়ঃ আল্লার নিদর্শন

(নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ আয়াত-এর তরজমা ও তাফসীর)

আয়াতে কারীমাহ্

وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ

[البقرة: 50]

সরল অনুবাদ

যখন তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিধা বিভক্ত করেছিলাম (১) এবং তোমাদেরকে উদ্ধার করেছিলাম ও ফিরআউনের অনুসারীদেরকে (সমুদ্রে) ডুবিয়ে দিলাম, আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে।
সূরার নাম — আল বাকারা | আয়াত নম্বর — ৫০

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

(১) সমুদ্র বিদীর্ণ ক'রে পথ তৈরী করার ব্যাপারটা একটি মু'জিযা (অলৌকিক ঘটনা) ছিল; যার বিস্তারিত বর্ণনা সূরা শুআ'রায় ২৬:১০-৬৮ আয়াতে আসবে। এটা জোয়ার-ভাটার ব্যাপার ছিল না; যেমন স্যার সাইয়েদ আহমাদ খান এবং অন্যান্য মু'জিযা অস্বীকারকারিগণ মনে করেন।

আয়াতে কারীমাহ্

وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ

[البقرة: 65]

সরল অনুবাদ

তোমাদের মধ্যে যারা শনিবারে (১) (বিশ্রামের দিনে) সীমালংঘন করেছিল, তাদেরকে তোমরা নিশ্চিতভাবে জান। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তোমরা ঘৃণিত বানর হয়ে যাও।’
সূরার নাম — আল বাকারা | আয়াত নম্বর — ৬৫

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

(১) শনিবারের দিন ইয়াহুদীদেরকে মাছ ধরতে এবং অন্যান্য যে কোনও পার্থিব কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা একটি বাহানা বানিয়ে আল্লাহর নির্দেশকে লঙ্ঘন করল। শনিবারের দিন (পরীক্ষা স্বরূপ) মাছ সংখ্যায় অনেক বেশী আসত। তারা খাল কেটে নিল, তাতে মাছগুলো আটকা পড়ে যেত এবং পরদিন রবিবারে সেগুলো ধরে নিত।

আয়াতে কারীমাহ্

إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ ۗ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ إِلَّا مِن بَعْدِ مَا جَاءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ

[آل عمران: 19]

সরল অনুবাদ

নিশ্চয় ইসলাম আল্লাহর নিকট (একমাত্র মনোনীত) ধর্ম।[১] যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তারা পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরও তাদের মধ্যে মতানৈক্য ঘটিয়েছিল![২] আর যে আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে[৩] অস্বীকার করে (সে জেনে রাখুক যে), নিশ্চয় আল্লাহ সত্বর হিসাব গ্রহণকারী।
সূরার নাম — আল ইমরান | আয়াত নম্বর — ১৯

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] ইসলাম সেই মনোনীত দ্বীন, যার প্রতি সকল নবীগণ সব সব যুগে আহবান করেছেন এবং যার শিক্ষা দিয়েছেন।
[২] 'মতানৈক্য' বলতে তাদের পারস্পরিক এমন মতবিরোধ...
[৩] এখানে 'নিদর্শন' বলতে সেই সব নিদর্শন...

আয়াতে কারীমাহ্

وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ

[الروم: 21]

সরল অনুবাদ

আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে আর একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই তোমাদের সঙ্গিনীদেরকে সৃষ্টি করেছেন ।
সূরার নাম — আর রুম | আয়াত নম্বর — ২১

আয়াতে কারীমাহ্

أَفَلَمْ يَنظُرُوا إِلَى السَّمَاءِ فَوْقَهُمْ كَيْفَ بَنَيْنَاهَا وَزَيَّنَّاهَا وَمَا لَهَا مِن فُرُوجٍ

[ق: 6]

সরল অনুবাদ

তারা কি তাদের উপরিস্থিত আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখে না যে, আমি কিভাবে ওটা নির্মাণ করেছি[১] ও তাকে সুশোভিত করেছি[২] এবং ওতে কোন ফাটলও নেই? [৩]
সূরার নাম — ক্বাফ | আয়াত নম্বর — ০৬

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অর্থাৎ, বিনা স্তম্ভে; যার সাহায্যে তা প্রতিষ্ঠিত আছে।
[২] অর্থাৎ, তারকারাজি দ্বারা তাকে সুশোভিত করা হয়েছে।
[৩] অনুরূপ তাতে কোন অসামঞ্জস্য ও খুঁত নেই।

কুরআনের বিষয়ভিত্তিক আরও কিছু মণিমুক্তা