বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

বিষয়ঃ আল্লাহর স্মরণ

(নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ আয়াত-এর তরজমা ও তাফসীর)

আয়াতে কারীমাহ্

وَمَن يَعْشُ عَن ذِكْرِ الرَّحْمَٰنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ

[الزخرف: 36]

সরল অনুবাদ

যে ব্যক্তি পরম দয়াময় আল্লাহর স্মরণে উদাসীন হয়[১] তিনি তার জন্য এক শয়তানকে নিয়োজিত করেন, অতঃপর সে হয় তার সহচর। [২]
সূরার নাম — আয্‌-যুখরুফ | আয়াত নম্বর — ৩৬

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] عَشَا يَعْشُو এর অর্থ হল, চোখের রোগ রাতকানা অথবা তার কারণে যে অন্ধত্ব আসে। অর্থাৎ, যে আল্লাহর যিকর থেকে অন্ধ (বা উদাসীন) হয়ে যায়।

[২] এই শয়তান আল্লাহর যিকর থেকে উদাসীন ব্যক্তির সাথী হয়ে যায়। সে সব সময় তার সাথে থেকে তাকে সমস্ত নেকীর কাজে বাধা দেয়। অথবা মানুষ নিজেই এই শয়তানের সঙ্গী হয়ে যায় এবং তার নিকট থেকে কোন সময় পৃথক হয় না, বরং সমস্ত কার্যকলাপে তারই অনুসরণ করে এবং তার যাবতীয় কুমন্ত্রণায় তার আনুগত্য করে।

আয়াতে কারীমাহ্

الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ ۗ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

[الرعد: 28]

সরল অনুবাদ

যারা বিশ্বাস করেছে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের হৃদয় প্রশান্ত হয়। জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্ত হয়। [১]
সূরার নাম — আর রা'দ | আয়াত নম্বর — ২৮

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] আল্লাহর স্মরণ বা যিকরের অর্থ তাঁর তওহীদের (একত্ববাদের) বর্ণনা, যার দ্বারা মুশরিকদের অন্তর সঙ্কুচিত হয়ে যায়। অথবা যিকর অর্থঃ তাঁর ইবাদত, কুরআন তিলাঅত, নফল ইবাদত এবং দু'আ ও মুনাজাত; যা ঈমানদারদের মনের খোরাক। অথবা তাঁর আদেশ-নির্দেশ পালন করা; যা ব্যতিরেকে ঈমানদার ও পরহেযগারগণ অস্থির থাকেন।

আয়াতে কারীমাহ্

فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ وَاشْكُرُوا لِي وَلَا تَكْفُرُونِ

[البقرة: 152]

সরল অনুবাদ

অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও, আর কৃতঘ্ন হয়ো না।[১]
সূরার নাম — আল বাকারা | আয়াত নম্বর — ১৫২

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অতএব এই অনুগ্রহ ও নিয়ামতের দরুন তোমরা আমার যিকর ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। অকৃতজ্ঞ হয়ে নিয়ামতকে অস্বীকার করো না। আর যিকর (স্মরণ) করার অর্থ হল, সদা-সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করা। অর্থাৎ, 'তাসবীহ' (সুবহানাল্লাহ), 'তাহলীল' (লা ইলাহা ইল্লাল্লা-হ) এবং 'তাকবীর' (আল্লাহু আকবার) পাঠ করতে থাকো। আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার অর্থ হল, আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি ও সামর্থ্যকে তাঁর (পক্ষ থেকেই আগত মনে করে তাঁরই সন্তুষ্টি ও) আনুগত্যের পথে ব্যয় করা। আল্লাহ প্রদত্ত শক্তিকে তাঁর অবাধ্যতায় ব্যয় না করা। (এবং মুখে আল্লাহর প্রশংসার সাথে তা বয়ান করা।) এ রকম করলে আল্লাহর অকৃতজ্ঞ তথা নিয়ামতের কুফরী করা হয়। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলে আরো অনুগ্রহ লাভের সুসংবাদ এবং অকৃতজ্ঞ হলে কঠিন শাস্তি পাওয়ার কথা এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন, "তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দান করব, আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।" (সূরা ইবরাহীম ১৪:৭ আয়াত)

আয়াতে কারীমাহ্

رِجَالٌ لَّا تُلْهِيهِمْ تِجَارَةٌ وَلَا بَيْعٌ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ ۙ يَخَافُونَ يَوْمًا تَتَقَلَّبُ فِيهِ الْقُلُوبُ وَالْأَبْصَارُ

[النور: 37]

সরল অনুবাদ

এমন সব (পুরুষ) লোক[১] যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং নামায কায়েম ও যাকাত প্রদান করা হতে বিরত রাখে না, তারা ভয় করে সেদিনকে, যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি ভীতি-বিহব্বল হয়ে পড়বে। [২]
সূরার নাম — আন নূর | আয়াত নম্বর — ৩৭

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] এ থেকে দলিল গ্রহন করে বলা হয়েছে যে, যদিও সাধারন পোশাককে বিনা সুগন্ধি মেখে, পর্দা সহকারে মেয়েরা মসজিদে যেতে পারে; যেমন আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর যুগে মেয়েরা মসজিদে নববীতে গিয়ে নামায আদায় করত, তবুও ওদের জন্য নিজ নিজ ঘরে নামায আদায় করাই অধিক উত্তম। হাদিসেও এ কথাকে স্পষ্ট করা হয়েছে। (আবু দাউদঃ নামায অধ্যায়, আহমাদ ৬/২৯৭, ৩০১)

[২] অর্থাৎ, অত্যন্ত ভয়ে ঘাবড়ে যাওয়ার কারণে। যেমন অন্যত্রে বলা হয়েছে,
{وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْآزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ}
অর্থাৎ, ওদেরকে আসন্ন দিন সম্পর্কে সতর্ক করে দাও, যখন দুঃখে-কষ্টে ওদের প্রাণ কণ্ঠাগত হবে। " (সূরা মু'মিন ৪০:১৮ আয়াত) প্রাথমিকভাবে সকলের অন্তরের অবস্থা এ রকম হবে; চাহে মু'মিন হোক বা কাফের।