বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
বিষয়ঃ আল্লাহর হিসাব গ্রহণ
(নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ আয়াত-এর তরজমা ও তাফসীর)
আয়াতে কারীমাহ্
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا وَلَوِ افْتَدَى بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُمْ مِنْ نَاصِرِينَ
[آل عمران: 91]
সরল অনুবাদ
নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করেছে এবং অবিশ্বাসী অবস্থায় মারা গেছে, তাদের কারো পক্ষ হতে পৃথিবী-পূর্ণ স্বর্ণ বিনিময়স্বরূপ প্রদান করলেও কখনো তা কবুল করা হবে না। এ সকল লোকের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি এবং এদের কোন সাহায্যকারীও নেই। [১]
সূরার নাম — আল ইমরান | অবর্তীণ — মদীনায় | আয়াত নম্বর — ৯১
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
[১] হাদীসে বর্ণিত যে, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ একজন জাহান্নামীকে বলবেন, 'যদি তোমার কাছে সারা পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণ থাকে, তাহলে জাহান্নাম থেকে বাঁচার বিনিময়ে সে সমস্ত স্বর্ণ কি তুমি দিতে পছন্দ করবে?' সে বলবে, 'হ্যাঁ।' আল্লাহ তাআলা বলবেন, 'আমি তো দুনিয়ায় এর থেকেও সহজ জিনিস তোমার কাছে চেয়েছিলাম। কেবল এই যে, আমার সাথে কাউকে শরীক করো না। কিন্তু তুমি শিরক থেকে বিরত থাকনি।' (মুসনাদ আহমাদ, অনুরূপ হাদীস বুখারী ও মুসলিমেও বর্ণিত হয়েছে)
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কাফেরের জন্য হবে জাহান্নামের চিরস্থায়ী আযাব। সে দুনিয়াতে কোন ভাল কাজ করে থাকলেও কুফরীর কারণে তার সে ভাল কাজ বরবাদ হয়ে যাবে। যেমন, হাদীসে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনে জাদআন; যে বড়ই অতিথিপরায়ণ, গরীব-অভাবীদের প্রতি উদার এবং ক্রীতদাস স্বাধীনকারী ছিল তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, এই ভালকাজগুলো তার কোন উপকারে আসবে কি? নবী করীম (সাঃ) বললেন, "না।" কারণ, সে একদিনও স্বীয় প্রতিপালকের কাছে নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। (মুসলিম)
অনুরূপ কেউ যদি কিয়ামতের দিন সারা পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণ বিনিময় স্বরূপ দিয়ে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চায়, তাও সম্ভব হবে না।
প্রথমতঃ সেখানে মানুষের কাছে থাকবেই বা কি? আর যদি মেনেই নেওয়া যায় যে, তার কাছে পৃথিবী পরিমাণ ধন-ভান্ডার হবে, যা দিয়ে সে নিজেকে আযাব থেকে বাঁচিয়ে নিতে চাইবে, তবুও সে বাঁচতে পারবে না। কারণ, তার কাছ থেকে বিনিময় গ্রহণ করাই হবে না। যেমন, অন্যত্র আল্লাহ বলেন,
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কাফেরের জন্য হবে জাহান্নামের চিরস্থায়ী আযাব। সে দুনিয়াতে কোন ভাল কাজ করে থাকলেও কুফরীর কারণে তার সে ভাল কাজ বরবাদ হয়ে যাবে। যেমন, হাদীসে বর্ণিত যে, আব্দুল্লাহ ইবনে জাদআন; যে বড়ই অতিথিপরায়ণ, গরীব-অভাবীদের প্রতি উদার এবং ক্রীতদাস স্বাধীনকারী ছিল তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল যে, এই ভালকাজগুলো তার কোন উপকারে আসবে কি? নবী করীম (সাঃ) বললেন, "না।" কারণ, সে একদিনও স্বীয় প্রতিপালকের কাছে নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। (মুসলিম)
অনুরূপ কেউ যদি কিয়ামতের দিন সারা পৃথিবী পরিমাণ স্বর্ণ বিনিময় স্বরূপ দিয়ে জাহান্নাম থেকে বাঁচতে চায়, তাও সম্ভব হবে না।
প্রথমতঃ সেখানে মানুষের কাছে থাকবেই বা কি? আর যদি মেনেই নেওয়া যায় যে, তার কাছে পৃথিবী পরিমাণ ধন-ভান্ডার হবে, যা দিয়ে সে নিজেকে আযাব থেকে বাঁচিয়ে নিতে চাইবে, তবুও সে বাঁচতে পারবে না। কারণ, তার কাছ থেকে বিনিময় গ্রহণ করাই হবে না। যেমন, অন্যত্র আল্লাহ বলেন,
[وَلا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلا تَنْفَعُهَا شَفَاعَةٌ]
"কারোও কাছ থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না এবং কারোও সুপারিশ ফলপ্রদ হবে না।" (সূরা বাক্বারাহ ২:১২৩)[لاَ بَيْعٌ فِيْهِ وَلاَ خِلاَلٌ]
"যেদিন না কোন বেচাকেনা হবে, আর না বন্ধুত্ব (উপকারে আসবে)।" (সূরা ইবরাহীম ১৪:৩১)
আয়াতে কারীমাহ্
وَلَوْ أَنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ مِنْ سُوءِ الْعَذَابِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَبَدَا لَهُمْ مِنَ اللَّهِ مَا لَمْ يَكُونُوا يَحْتَسِبُونَ
[الزمر: 47]
সরল অনুবাদ
যারা সীমালংঘন করেছে; যদি তাদের পৃথিবীর সমস্ত কিছু এবং তার সাথে সমপরিমাণ আরও কিছু থাকত, তাহলে কিয়ামতের দিন নিকৃষ্ট শাস্তি হতে মুক্তির জন্য পণ স্বরূপ তা প্রদান করত।[১] তাদের সামনে আল্লাহর নিকট হতে এমন কিছু প্রকাশ হবে, যা ওরা কল্পনাও করেনি।[২]
সূরার নাম — আয্-যুমার | অবর্তীণ — মক্কায় | আয়াত নম্বর — ৪৭
সংক্ষিপ্ত তাফসীর
[১] তবুও তা গৃহীত হতো না। যেমন, অন্যত্র আরো পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে,
[২] অর্থাৎ, আযাবের কঠিনতা, ভয়াবহতা এবং তা এত প্রকারের হবে যে, তা হয়তো কোনদিন তাদের ধারণা ও কল্পনাতেও আসেনি। (অথবা যে সকল কাজ তারা ভালো মনে করে করেছিল তা তাদের সামনে আল্লাহর নিকট খারাপ রূপে প্রকাশ পাবে; যা ওরা কল্পনাও করেনি যে, তা আসলে খারাপ কাজ।)
﴿فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِلءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا وَلَوِ افْتَدَى بِهِ﴾
"যদি সারা পৃথিবী পরিমাণ সোনাও তার পরিবর্তে দেওয়া হয়, তবুও তা কবুল করা হবে না।" কারণ, وَلاَ يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ "সেখানে কোন বিনিময় গ্রহণ করা হবে না।" (البقرة:৪৮)[২] অর্থাৎ, আযাবের কঠিনতা, ভয়াবহতা এবং তা এত প্রকারের হবে যে, তা হয়তো কোনদিন তাদের ধারণা ও কল্পনাতেও আসেনি। (অথবা যে সকল কাজ তারা ভালো মনে করে করেছিল তা তাদের সামনে আল্লাহর নিকট খারাপ রূপে প্রকাশ পাবে; যা ওরা কল্পনাও করেনি যে, তা আসলে খারাপ কাজ।)
আয়াতে কারীমাহ্
لِلَّذِينَ اسْتَجَابُوا لِرَبِّهِمُ الْحُسْنَى وَالَّذِينَ لَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُ لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لَافْتَدَوْا بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ سُوءُ الْحِسَابِ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمِهَادُ
[الرعد: 18]
সরল অনুবাদ
যারা পালনকর্তার নির্দেশ পালন করে তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। আর যারা আদেশ পালন করে না, যদি তাদের থাকতো যা কিছু পৃথিবীতে আছে তা সবই এবং সাথে সমপরিমাণ আরো; তবে সবই নিজেদের মুক্তিপণ স্বরুপ দিয়ে দিত। তাদের জন্যে রয়েছে কঠোর হিসাব। তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম। তা কতই না নিকৃষ্ট আবাসস্থল।
সূরার নাম — রা’আদ | অবর্তীণ — মক্কায় | আয়াত নম্বর — ১৮