"বিসমিল্লাহি তা'আলা"

এক নজরে ওমরাহ্ এর রুকন সমূহ

  • ক) ওমরাহ্ এর ফরজ ২ টি : ১) ইহরাম বাঁধা (উমরা করার নিয়ত করা) ২) বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করা
  • খ) ওমরাহ্ এর ওয়াজিব ২ টি : ১) সাফা মারওয়া সায়ী ২) মাথা মুন্ডন বা চুল ছাঁটা

ইহরাম বাঁধা (ফরজ):

নিয়ত করা :
আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল উমরাতা ফাইয়াস্সিরহা-লী ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নি।
অর্থ -( হে আল্লাহ , আমি ওমরাহ্ পালন করার নিয়ত করেছি, আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।)
তালবিয়া পড়া :
লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা-শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মূলক লা-শারিকা লাকা।
অর্থ -( আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ। আমি উপস্থিত, আমি উপস্থিত, কোন শরীক নাই তোমার, আমি উপস্থিত, নিশ্চয়ই সকল অনুগ্রহ প্রশংসা ও সাম্রাজ্য তোমার, তোমার কোন শরীক নাই।)

মক্কা: মক্কায় আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করা- ফরজ।

কাবা শরীফ দেখা মাত্র দোয়া :
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু - ৩ বার
তাওয়াফের নিয়ত করা:
আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদু তাওয়াফা বাইতিকাল হারাম সাব আতা আশওয়াতিন লিল্লাহি তা'আলা ফাইয়াস্সিরহুলী ওয়া তাকাব্বাল হু মিন্নি।
অর্থ -( হে আল্লাহ , আমি আপনার ঘর ৭ চক্কর বিশিষ্ট তাওয়াফ করার নিয়ত করেছি, আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।)
হাজরে আসওয়াদ বরাবর দোয়া :
(দুই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে) বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার , লা - ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া লিল্লাহিল হামদ। ওয়াছসালাতু ওয়াছ সালামু আলা রাসুলিল্লাহ্।
(তারপর নিজের দুই হাত হলেও চুমু খাবেন)
হাজরে আসওয়াদ এ আসার পূর্বে দোয়া :
(রুকনে ইয়ামিনি হইতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত): রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া কিনা আজাবান্নার, ওয়া আদখিলনালজান্নাতা মা'আল আবরার, ইয়া আজিজু, ইয়া গাফফার, ইয়া রাব্বাল আল আমিন।
- এখন ১ চক্কর শেষ হলো। এভাবে ৭ চক্কর করতে হবে।

তাওয়াফের নামাজ (ওয়াজিব):

মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে - দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ - সালাতুত তাওয়াফের নিয়তে আদায় করা।

জমজমের পানি পানের দোয়া :
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসালুকা ইল্ মান নাফিয়া ওয়া রিয্ কান ওয়াসিয়া ওয়া আমালান সালিহান ওয়া শিফা আন মিনকুল্লি দা'ইন।
অর্থ -( হে আল্লাহ। আমি আপনার নিকট উপকারী এলেম, প্রশস্ত রিযিক, নেক আমল ও সমস্ত অসুস্থতা হতে শিফা কামনা করছি)

সায়ী করা (ওয়াজিব) :

নিয়ত করা :
আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদিস সা'ইয়া বাইনাস সাফা ওয়াল মারওয়া ফাইয়াস্সিরহুলী ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি।
অর্থ -( হে আল্লাহ, আমি আপনার জন্য সাফা মারওয়া সায়ী করার নিয়ত করেছি, আপনি আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং কবুল করেনিন।)
- সায়ী শেষে সম্ভব হলে দুই রাকাত নামাজ পড়া

মাথার চুল মুন্ডান (ওয়াজিব): মহিলাদের জন্য মাথার চুল এক কড়া / এক ইঞ্চি পরিমান কাটা।


"বিসমিল্লাহি তা'আলা"

এক নজরে হজ্জ এর রুকন সমূহ

  • ক) হজ্জ এর ফরজ ৩ টি : ১) ইহরাম বাঁধা ২) আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ৩) তাওয়াফ যিয়ারত করা
  • খ) হজ্জ এর ওয়াজিব ৬ টি : ১) মুজদালিফাতে অবস্থান করা ২) শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ করা ৩) কুরবানী করা ৪) মাথা মুন্ডন করা ৫) ফরজ তাওয়াফের পর সাফা মারওয়া সায়ী করা ৬) দেশে ফেরার পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ করা

১ম দিন : ৮ ই জিলহজ্জ :

ইহরাম বাঁধা (ফরজ) - নিয়ত করা :
আল্লাহুম্মা ইন্নি উরিদুল হাজ্জা ফাইয়াস্সিরহুলী ওয়া তাকাব্বালহু মিন্নি।
অর্থ -( হে আল্লাহ , আমি হজ্জ পালন করার নিয়ত করেছি, আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং কবুল করে নিন।)
তালবিয়া পড়া :
লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা - শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি'মাতা লাকা ওয়াল মূলক , লা - শারিকা লাকা।

ইহরাম বাঁধা (ফরজ): এখন 'মিনা'র উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া। মিনায় - জোহর , আছর , মাগরিব , এশা এবং রাত্রি অবস্থান করিয়া ফরজ নামাজ আদায় করা - সুন্নাত।

২য় দিন : ৯ ই জিলহজ্জ : দিবা :

  • ১) বাদ ফজর মিনা হতে আরাফার ময়দানের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া।
তাকবিরে তাশরিক পড়া :
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
(৯ই জিলহজ্জ ফজর হতে ১৩ই জিলহজ্জ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে পড়া - ওয়াজিব)

আরাফার ময়দানে অবস্থান কালীন আ'মল

(ক) লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু... - ১০০ বার
অর্থ - (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি এক, তার কোন শরীক নেই, তিনি সমস্ত জগতের মালিক...)
(খ) লা-ইলাহা ইল্লা আনতা সোবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন - ১০০ বার
(গ) ছোবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার... - ১০০ বার
(ঘ) সুরা এখলাস। - ১০০ বার
(ঙ) দরূদ শরীফ। - ১০০ বার
বিঃদ্রঃ প্রতিবার দরূদ শরীফ শেষে ‘ওয়া'আলাইনা মাআ'হুম’ পড়তে হবে।

আরাফা :

  • ২) আরাফার ময়দানে পৌঁছে জোহর এবং আছর নামাজ নির্ধারিত সময়ে পড়া। সম্ভব হলে মসজিদে নামিরায় জামাতের সহিত উক্ত নামাজ আদায় করা।

সূর্যাস্তের পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা - ইহা হজ্জের মূল রুকন - ফরজ

২য় দিন : ৯ ই জিলহজ্জ : রাত্রি : মুজদালিফা :

  • ১) সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজ না পড়িয়া 'মুজদালিফায়' রওনা হওয়া।
  • ২) 'মুজদালিফায়' আসিয়া এশার ওয়াক্তে 'মাগরিব ও এশার' নামাজ এক আযানে ও এক ইকামতে আদায় করা - ওয়াজিব
  • ৩) 'মুজদালিফায়' রাত্রি যাপন করা - সুন্নত
  • ৪) এখান থেকে জামারাতে (শয়তানকে) কঙ্কর নিক্ষেপ করার জন্য ৭০ (সত্তর) টি কঙ্কর সংগ্রহ করা।
  • ৫) এবং রাত্রি যাপন শেষে ফজর নামাজ আদায় করা।

৩ য় দিন : ১০ ই জিলহজ্জ: মুজদালিফা :

'মুজদালিফায়' ফজর নামাজ আদায়ের পর আবার মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া

মিনা :

মিনায় পৌঁছে প্রধানত : ৩ ( তিন ) টি কাজ ধারাবাহিকভাবে করতে হবে :

  • ক) ১ম কাজ : দুপুরের পূর্বেই একমাত্র বড় শয়তানকে ৭ (সাত) টি কঙ্কর নিক্ষেপ করা -ওয়াজিব
    কঙ্কর নিক্ষেপের দোয়া : বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, রাগমান লিস শয়তান , ওয়া রিদানলির রহমান।
  • খ) ২য় কাজ : কোরবানী করা - ওয়াজিব
  • গ) ৩য় কাজ : মাথার চুল মুন্ডানো - ওয়াজিব
  • ঘ) ৪র্থ কাজ : তাওয়াফ যিয়ারত - ফরজ
    ( অদ্য ১০ই জিলহজ্জ তাওয়াফ জিয়ারত সম্ভব না হলে ১১ বা ১২ ই জিলহজ্জ তারিখে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত করা যাবে)

৪ র্থ দিন : ১১ ই জিলহজ্জ:

অদ্য দুপুরের পর প্রথম :

  • ক) ছোট শয়তানকে লক্ষ্য করে ৭ টি কঙ্কর
  • খ) মধ্যম শয়তানকে লক্ষ্য করে ৭ টি কঙ্কর ও
  • গ) বড় শয়তানকে লক্ষ্য করে ৭ টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে - ওয়াজিব

৫ম দিন : ১২ ই জিলহজ্জ : মিনা:

ঠিক গতকালের মত আবারো (৩ x ৭)= ২১টি কঙ্করও নিক্ষেপ করতে হবে - ওয়াজিব
এখন পর্যন্ত যদি তাওয়াফ জিয়ারাত না করে থাকেন তবে আজ করে নিতে হবে।

তাওয়াফে বিদা : মক্কা :

  • ১) মক্কা শরীফ থেকে বিদায়ের পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ করুন - ওয়াজিব
  • ২) এখানে ইজতিবা , রমল , সায়ী - ইত্যাদি নাই।

(দু'আ কবুলের স্থান সমূহ)

  • ১) কা'বা শরীফের উপর যখন দৃষ্টি পড়ে।
  • ২) মাতাফ -তাওয়াফের জায়গা।
  • ৩) মুলতাযাম - কা'বা ঘরের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান।
  • ৪) মীযাবে রহমতের নীচে (হাতীমের মধ্যে)
  • ৫) বায়তুল্লাহ শরীফের ভিতরে।
  • ৬) যমযম কূপের কাছে।
  • ৭) মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে।
  • ৮) সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের উপর।
  • ৯) উপরোক্ত পাহাড় দ্বয়ের মাঝামাঝি দৌড়ানোর জায়গায়।
  • ১০) হাতীমের মধ্যে।
  • ১১) রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদও মধ্যবর্তী স্থানে।
  • ১২) মিনার মসজিদ সমূহে ও ময়দানে।
  • ১৩) আরাফাতের ময়দানে।
  • ১৪) জাবালে রহমতে।
  • ১৫) মুজদালিফার ময়দানে।
  • ১৬) কঙ্কর মারার স্থানে।