বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

বিষয়ঃ রাসূলগণের কাজ

(নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ আয়াত-এর তরজমা ও তাফসীর)

আয়াতে কারীমাহ্

فَفِرُّوا إِلَى اللَّهِ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ

[الذاريات: 50]

সরল অনুবাদ

সুতরাং আল্লাহর দিকে ধাবিত হও;[১] নিশ্চয় আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী।
সূরার নাম — আয-যারিয়াত | আয়াত নম্বর — ৫০

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অর্থাৎ, কুফরী ও পাপাচার থেকে তওবা করে সত্বর আল্লাহর দরবারে নত হয়ে যাও এবং তাতে বিলম্ব করো না।

আয়াতে কারীমাহ্

وَلَا تَجْعَلُوا مَعَ اللَّهِ إِلَٰهًا آخَرَ ۖ إِنِّي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ مُّبِينٌ

[الذاريات: 51]

সরল অনুবাদ

তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য স্থির করো না; নিশ্চয় আমি তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য স্পষ্ট সতর্ককারী।[১]
সূরার নাম — আয-যারিয়াত | আয়াত নম্বর — ৫১

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অর্থাৎ, আমি তোমাদেরকে স্পষ্টভাবে সতর্ক ও ভীতি-প্রদর্শন করছি এবং তোমাদের শুভ কামনা করছি। তোমরা কেবল এক আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর। তাঁরই উপর আস্থা ও ভরসা রাখ এবং কেবল তাঁরই ইবাদত কর। তাঁর সাথে অন্য মনগড়া উপাস্যদেরকে শরীক করো না। এ রকম করলে মনে রেখো, জান্নাতের নিয়ামতসমূহ থেকে চিরকালের জন্য বঞ্চিত থেকে যাবে।

আয়াতে কারীমাহ্

وَذَكِّرْ فَإِنَّ الذِّكْرَىٰ تَنفَعُ الْمُؤْمِنِينَ

[الذاريات: 55]

সরল অনুবাদ

তুমি উপদেশ দিতে থাক, কারণ উপদেশ বিশ্বাসীদের উপকারে আসবে। [১]
সূরার নাম — আয-যারিয়াত | আয়াত নম্বর — ৫৫

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] কেননা, নসীহত থেকে তারাই উপকৃত হয়। অথবা অর্থ হল, তুমি নসীহত করতে থাক; এই নসীহত থেকে তারা লাভবান হবে, যাদের ব্যাপারে আল্লাহর ইলমে আছে যে, তারা ঈমান আনবে।

আয়াতে কারীমাহ্

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً ۚ وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَن يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۗ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ

[الرعد: 38]

সরল অনুবাদ

তোমার পূর্বেও আমি অনেক রসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করেছিলাম।[১] আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কোন নিদর্শন উপস্থিত করা কোন রসূলের কাজ নয়;[২] প্রত্যেক নির্ধারিত কালের লিপিবদ্ধ গ্রন্থ আছে। [৩]
সূরার নাম — আর রা'দ | আয়াত নম্বর — ৩৮

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অর্থাৎ, যত নবী ও রসূল এসেছেন সবাই মানুষই ছিলেন, তাঁদের নিজসব পরিবার, বংশ, স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততি ছিল। তাঁরা না ফিরিশতা ছিলেন আর না মানব রূপে নূরের সৃষ্টি ছিলেন। বরং তারা মানবকুল থেকেই ছিলেন। কেননা যদি তাঁরা ফিরিশতা হতেন তাহলে মানুষের জন্য তাঁদের প্রকৃতির সাথে স্বাভাবিক হওয়া এবং তাঁদের কাছাকাছি হওয়া অসম্ভব ছিল, যার ফলে তাঁদেরকে প্রেরণ করার মুখ্য উদ্দেশ্যই বিফল হয়ে যেত। আর যদি উক্ত ফিরিশতাগণ মানব রূপে আসতেন তাহলে দুনিয়াতে না তাদের পরিবার ও বংশ হতো আর না স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি হতো। এ থেকে জানা গেল যে, সকল নবীগণ মানবকুল থেকেই ছিলেন, মানবরূপে ফিরিশতা অথবা কোন নূরের সৃষ্টি ছিলেন না। উল্লিখিত আয়াতে أزْوَاجًا (স্ত্রী দান করেছিলাম) থেকে বৈরাগ্য বা সন্ন্যাস্বাদ খন্ডন হয়। আর ذُرِّيَّةٌ (সন্তান-সন্ততি দান করেছিলাম) থেকে পরিবার পরিকল্পনার কথা খন্ডন হয়, কেননা ذُرِّيَّةٌ (অর্থগত) বহুবচন শব্দ; যা কমপক্ষে তিন হবে।

[২] অর্থাৎ মু'জিযা (অলৌকিক ঘটনা) প্রদর্শন রসূলদের এখতিয়ারে নেই যে, যখন তাদের কাছে তলব করা হবে, তখনই তা প্রকাশ করে দেখিয়ে দেবেন, বরং এটা সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর এখতিয়ারে, তিনি স্বীয় হিকমত ও ইচ্ছা অনুসারে ফায়সালা করেন যে, মু'জিযার প্রয়োজন আছে না নেই। আর যদি আছে, তাহলে কি রকম এবং কখন তা দেখাবার প্রয়োজন আছে।

[৩] অর্থাৎ আল্লাহ যা কিছুরই ওয়াদা করেছেন, তার একটি সময় নির্ধারিত আছে, উক্ত নির্ধারিত সময়ে তা অবশ্যই ঘটবে, কেননা আল্লাহর ওয়াদা ভঙ্গ হয় না। কেউ কেউ বলেছেন যে বাক্যে আগে-পিছে রয়েছে, মূল বাক্য এরূপ لِكُلِّ كِتَابٍ أجَلٌ অর্থাৎ প্রত্যেক সেই বিষয় যা আল্লাহ লিখে রেখেছেন, তার একটা সময় নির্ধারিত আছে। অর্থাৎ বিষয়টি কাফেরদের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার উপর নয়; বরং কেবল মাত্র আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

আয়াতে কারীমাহ্

الر ۚ كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَىٰ صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ

[إبراهيم: 1]

সরল অনুবাদ

আলিফ লা-ম রা। এই কিতাব এটা আমি তোমার প্রতি অবতীর্ণ করেছি; যাতে তুমি মানব জাতিকে তাদের প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে[১] অন্ধকার হতে আলোকের দিকে;[২] পরাক্রমশালী, সর্বপ্রশংসিতের পথে বের করে আনতে পার।
সূরার নাম — ইব্রাহীম | আয়াত নম্বর — ১

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অর্থাৎ, নবীর কাজ শুধু হিদায়াতের রাস্তা দেখানো। যদি কেউ হিদায়াতের পথ অবলম্বন করে, তাহলে তা একমাত্র আল্লাহর হুকুম ও ইচ্ছার ভিত্তিতেই করে থাকে। কেননা মূল হিদায়াতদানকারী তো তিনিই। যদি তাঁর ইচ্ছা না হয়, তাহলে নবী যতই ওয়ায-নসীহত করুক না কেন, লোকেরা হিদায়াতের পথে আসতে প্রস্তুত হবে না। এর বিভিন্ন উদাহরণ পূর্ববর্তী নবীদের জীবনে বিদ্যমান রয়েছে। স্বয়ং শেষনবী (সাঃ)-এর কঠিন ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাঁর দয়ার্দ্র চাচা আবূ তালেবকে মুসলমান করতে পারেননি।

[২] যেমন মহান আল্লাহ অন্য স্থানেও বলেছেন,
﴿هُوَ الَّذِي يُنَزِّلُ عَلَى عَبْدِهِ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَكُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ﴾
অর্থাৎ, তিনিই তাঁর বান্দার প্রতি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ অবতীর্ণ করেন, তোমাদেরকে সমস্ত প্রকার অন্ধকার হতে আলোর দিকে আনার জন্য। (সূরা হাদীদ ৫৭:৯)
তিনি আরো বলেন,
﴿اللهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُواْ يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّوُرِ﴾
অর্থাৎ, আল্লাহই হচ্ছেন মুমিনদের অভিভাবক, তিনি তাদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে যান। (সূরা বাক্বারাহ ২:২৫৭)

আয়াতে কারীমাহ্

وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ ۗ وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ ۗ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا

[الفرقان: 20]

সরল অনুবাদ

তোমার পূর্বে আমি যে সব রসূল প্রেরণ করেছি তারা সকলেই তো আহার করত[১] ও হাটে-বাজারে চলাফেরা করত।[২] আমি তোমাদের মধ্যে এককে অপরের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ করেছি।[৩] তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে কি? তোমার প্রতিপালক সমস্ত কিছুর সম্যক দ্রষ্টা। [৪
সূরার নাম — আল ফুরকান | আয়াত নম্বর — ২০

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অর্থাৎ, তাঁরা মানুষ ছিলেন এবং খাদ্যের মুখাপেক্ষী ছিলেন।

[২] অর্থাৎ, হালাল রুযী সংগ্রহ করার মানসে উপার্জন ও বাণিজ্য করতেন। যার অর্থ হল এসব বিষয় নবুঅতী মর্যাদার পরিপন্থী নয়, যেমন কিছু লোক মনে করে।

[৩] অর্থাৎ, আমি ঐসব নবীদের এবং তাদের মাধ্যমে তাদের অনুসারীদেরকেও পরীক্ষা করেছি, যাতে আসল ও নকলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। অতএব যারা পরীক্ষায় ধৈর্য ও সহনশীলতাকে আঁকড়ে ধরে থেকেছে, তারা হয়েছে সফলকাম এবং অন্যরা হয়েছে অসফল। সেই জন্য পরে বলা হয়েছে, তোমরা ধৈর্যধারণ করবে কি?

[৪] অর্থাৎ, তিনি জানেন, অহী ও রিসালাতের উপযুক্ত ও অনুপযুক্ত কে?
{اللهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ}
(১২৪) سورة الأنعام আর হাদীসে এসেছে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, "আল্লাহ আমাকে এই এখতিয়ার দিয়েছিলেন যে, আমি বাদশাহ নবী হব অথবা দাস রসূল? আমি দাস রসূল হওয়া পছন্দ করেছি। (ইবনে কাসীর)