বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

বিষয়ঃ সফলতা

(নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ আয়াত-এর তরজমা ও তাফসীর)

আয়াতে কারীমাহ্

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا وَاعْبُدُوا رَبَّكُمْ وَافْعَلُوا الْخَيْرَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

[الحج: 77]

সরল অনুবাদ

হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা রুকূ কর, সিজদা কর[১] এবং তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর ও সৎকর্ম কর; যাতে তোমরা সফলকাম[২] হতে পার। [৩] (সাজদাহ-ইমাম শাফেয়ীর মতে)
সূরার নাম — আল হাজ্জ্ব | আয়াত নম্বর — ৭৭

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অর্থাৎ, নামাযের প্রতি যত্নবান হও যা শরীয়তে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ইবাদতের আদেশও করা হয়েছে, যার মধ্যে নামাযও শামিল। কিন্তু নামাযের বিশেষ গুরুতত্ত্ব ও মর্যাদার দিক দিয়ে লক্ষ্য রেখে তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ হয়েছে।

[২] অর্থাৎ, সফলতা আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর আনুগত্যে; অর্থাৎ সৎকর্ম সম্পাদনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য হতে মুখ ফিরিয়ে শুধু দুনিয়ার ধন-সম্পদ ও বিলাস-সামগ্রীর আধিক্যে সফলতা নেই; যেমন অধিকাংশ মানুষের ধারণা।

[৩] এই আয়াত শেষে তিলাঅতের সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম জানতে সূরা আ'রাফের শেষ আয়াতের ৭:২০৬ টীকা দ্রষ্টব্য।

আয়াতে কারীমাহ্

وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ

[البقرة: 4]

সরল অনুবাদ

এবং তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে যারা বিশ্বাস করে[১] ও পরলোকে যারা নিশ্চিত বিশ্বাসী।
সূরার নাম — আল বাকারা | আয়াত নম্বর — ৪

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] 'পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে বিশ্বাস করা'র অর্থ হল এই যে, যে গ্রন্থসমূহ পূর্ববর্তী নবীগণের উপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল, তা সবই সত্য। যদিও সেই কিতাব বা গ্রন্থাবলী বর্তমানে আসল (অপরিবর্তিত) অবস্থায় পাওয়া যায় না। তাই সেগুলির উপর আমল করাও যাবে না। এখন শুধু ক্বুরআন ও তার ব্যাখ্যা হাদীসের উপরেই আমল করতে হবে। এ থেকে এ কথাও জানা গেল যে, অহী ও রিসালাতের ধারাবাহিকতা রসূল (সাঃ) পর্যন্তই শেষ। তা না হলে তার (পরে আগত কোন রিসালাতের) উপর ঈমান আনার কথাও মহান আল্লাহ অবশ্যই উল্লেখ করতেন।

আয়াতে কারীমাহ্

أُولَٰئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

[البقرة: 5]

সরল অনুবাদ

তারাই তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।
সূরার নাম — আল বাকারা | আয়াত নম্বর — ৫

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

এখানে সেই ঈমানদার বা বিশ্বাসীদের পরিণামের কথা বলা হয়েছে, যারা ঈমান আনার পর আল্লাহভীরু ও আমল করা সহ সঠিক আক্বীদার উপর কায়েম থাকার প্রতি যত্ন নেয়; কেবল মৌখিক ঈমান প্রকাশকে যথেষ্ট মনে করে না। আর সফলকাম হওয়ার অর্থ, আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর রহমত ও ক্ষমা লাভ। এর সাথে যদি দুনিয়াতেও সুখ-সাছন্দ্য ও সফলতা লাভ হয়ে যায় তাহলে তো 'সুবহানাল্লাহ' (বিরাট সৌভাগ্য)। নচেৎ আখেরাতের সফলতাই হল প্রকৃত সফলতা।

এর পর মহান আল্লাহ অন্য এক দলের কথা বলছেন যারা কেবল কাফেরই নয়, বরং তাদের কুফরী ও অবাধ্যতা এমন অন্তিম পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এর পর তাদের কোন মঙ্গল বা ইসলাম কবুল করার কোন আশাই নেই।

আয়াতে কারীমাহ্

مَّن يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ

[الأنعام: 16]

সরল অনুবাদ

সে দিন যাকে শাস্তি হতে রক্ষা করা হবে তার প্রতি তিনি তো দয়া করবেন এবং ঐটিই হল স্পষ্ট সফলতা।’ [১]
সূরার নাম — আল আনআম | আয়াত নম্বর — ১৬

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] যেমন অন্যত্র বলেছেন, {فَمَنْ زُحْزِحَ عَنِ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ} "সুতরাং যাকে জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে, সে সফল হবে।" (সূরা আল-ইমরান ৩:১৮৫) কারণ, সফলতা হলো অকল্যাণ থেকে বেঁচে যাওয়া এবং কল্যাণ অর্জন করার নাম। আর জান্নাত অপেক্ষা কল্যাণকর জিনিস আর কি হতে পারে?

আয়াতে কারীমাহ্

لَٰكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۚ وَأُولَٰئِكَ لَهُمُ الْخَيْرَاتُ ۖ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

[التوبة: 88]

সরল অনুবাদ

কিন্তু রসূল ও তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল, তারা নিজেদের ধন ও প্রাণ দ্বারা জিহাদ করল; তাদেরই জন্য রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই হচ্ছে সফলকাম।
সূরার নাম — আত তাওবাহ্ | আয়াত নম্বর — ৮৮

আয়াতে কারীমাহ্

فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنفِقُوا خَيْرًا لِّأَنفُسِكُمْ ۗ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

[التغابن: 16]

সরল অনুবাদ

তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর এবং শোনো, আনুগত্য কর[১] ও ব্যয় কর, তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণ হবে।[২] আর যারা অন্তরের কার্পণ্য হতে মুক্ত, তারাই সফলকাম।
সূরার নাম — আত তাগাবুন | আয়াত নম্বর — ১৬

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অর্থাৎ, আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের কথাগুলোকে মনোযোগ ও ধ্যান দিয়ে শোনো এবং তার উপর আমল কর। কেননা, কেবল শুনে নেওয়া কোন উপকারে আসবে না, যতক্ষণ না আমল হবে।

[২] خَيْرًا أَيْ: إِنْفَاقًا خَيْرًا، يَكُن الإِنْفَاقُ خَيْرًا 'ব্যয় কর' শব্দটি ব্যাপকার্থবোধক শব্দ, যা ওয়াজেব ও নফল উভয় প্রকার সাদাকাই শামিল।

আয়াতে কারীমাহ্

وَلْتَكُن مِّنكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ وَيَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ ۚ وَأُولَٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ

[آل عمران: 104]

সরল অনুবাদ

তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা (লোককে) কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকার্যের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কার্য থেকে নিষেধ করবে। আর এ সকল লোকই হবে সফলকাম।
সূরার নাম — আল ইমরান | আয়াত নম্বর — ১০৪