বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

বিষয়ঃ শাফায়াত (সুপারিশকারী)

(নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ আয়াত-এর তরজমা ও তাফসীর)

আয়াতে কারীমাহ্

وَاتَّقُوا يَوْمًا لَّا تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ

[البقرة: 48]

সরল অনুবাদ

তোমরা সেই দিনকে ভয় কর, যেদিন কেউ কারোর কোন কাজে আসবে না, কারোও সুপারিশ সবীকৃত হবে না, কারোও নিকট হতে ক্ষতিপূরণ গৃহীত হবে না এবং তারা কোন প্রকার সাহায্যও পাবে না।
সূরার নাম — আল বাকারা | অবর্তীণ — মদীনায় | আয়াত নম্বর — ৪৮

আয়াতে কারীমাহ্

وَاتَّقُوا يَوْمًا لَّا تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا تَنفَعُهَا شَفَاعَةٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ

[البقرة: 123]

সরল অনুবাদ

তোমরা সেই দিনকে ভয় কর, যেদিন কেউ কারো উপকারে আসবে না, কারো নিকট হতে কোন ক্ষতিপূরণ গৃহীত হবে না, কোন সুপারিশ কারো পক্ষে লাভজনক হবে না এবং তারা কোন সাহায্যও পাবে না।
সূরার নাম — আল বাকারা | অবর্তীণ — মদীনায় | আয়াত নম্বর — ১২৩

আয়াতে কারীমাহ্

وَأَنذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَن يُحْشَرُوا إِلَىٰ رَبِّهِمْ ۙ لَيْسَ لَهُم مِّن دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ

[الأنعام: 51]

সরল অনুবাদ

যারা ভয় করে যে, তাদের প্রতিপালকের নিকট তাদেরকে এমন অবস্থায় সমবেত করা হবে যে, তিনি ব্যতীত তাদের কোন অভিভাবক বা সুপারিশকারী থাকবে না, তুমি তাদেরকে এ (কুরআন) দ্বারা সতর্ক কর; হয়তো তারা সাবধান হবে। [১]
সূরার নাম — আল আনআম | অবর্তীণ — মক্কায় | আয়াত নম্বর — ৫১

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] অর্থাৎ, এই ধরনের লোকদেরকেই ভয় দেখানোতে লাভ আছে। নচেৎ যারা পুনরুত্থান এবং হাশরের মাঠে একত্রিত হওয়া ইত্যাদির উপর বিশ্বাসই রাখে না, তারা তো তাদের কুফরী ও অমান্য করার নীতির উপরেই কায়েম থাকে। এ ছাড়াও এতে সেই কিতাবধারী, কাফের এবং মুশরিকদের খন্ডনও করা হয়েছে, যারা তাদের পূর্বপুরুষ এবং প্রতিমাদেরকে নিজেদের সুপারিশকারী মনে করত। অনুরূপ 'অভিভাবক ও সুপারিশকারী থাকবে না' কথার অর্থ হল, তাদের জন্য, যারা জাহান্নামের আযাবের যোগ্য বিবেচিত হয়ে গেছে। কেননা, মু'মিনদের জন্য তো আল্লাহর নেক বান্দারা আল্লাহর নির্দেশে সুপারিশ করবেন। অর্থাৎ, সুপারিশের অস্বীকৃতি কাফের ও মুশরিকদের জন্য এবং তার সবীকৃতি তাদের জন্য, যারা তাওহীদবাদী মু'মিন বান্দা হবে। এইভাবে উভয় প্রকারের আয়াতের মধ্যে কোন বিরোধ থাকবে না।

আয়াতে কারীমাহ্

اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ ۖ مَا لَكُم مِّن دُونِهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا شَفِيعٍ ۚ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ

[السجدة: 4]

সরল অনুবাদ

আল্লাহ; যিনি আকাশমন্ডলী, পৃথিবী এবং ওদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হন।[১] তাঁর বিরুদ্ধে তোমাদের কোন অভিভাবক অথবা সুপারিশকারী নেই;[২] তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?[৩]
সূরার নাম — আস সেজদাহ্‌ | অবর্তীণ — মক্কায় | আয়াত নম্বর — ৪

সংক্ষিপ্ত তাফসীর

[১] এ ব্যাপারে সূরা আ'রাফের ৭:৫৪ নং আয়াতের টীকা দেখুন। এখানে উক্ত বিষয়কে পুনরায় উক্ত করার উদ্দেশ্য এই হতে পারে যে, আল্লাহ তাআলার অসীম ক্ষমতা ও বিস্ময়কর সৃষ্টির কথা শুনে হয়তো বা তারা কুরআন শ্রবণ করবে এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবে。

[২] অর্থাৎ সেখানে এমন কোন বন্ধু হবে না, যে তোমাদের সাহায্য করতে পারবে ও তোমাদের নিকট থেকে আল্লাহর শাস্তিকে দূর করতে পারবে এবং সেখানে এমন কোন সুপারিশকারীও হবে না, যে তোমাদের জন্য সুপারিশ করতে পারবে।

[৩] অর্থাৎ, হে গায়রুল্লাহর পূজারী ও আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের উপর ভরসা স্থাপনকারী! তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?