বরাবর: মুহতারাম প্রধান মুফতী সাহেব দা.বা.
বিষয়: তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ প্রসঙ্গে।
সমস্যা: আমার জানা মতে, দিনের তিন সময়ে নামাজ পড়া মাকরুহ। কিন্তু অনেককেই দেখি যে, যখনই মসজিদে প্রবেশ করে তখনই তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ পড়ে, যদিও তা মাকরুহ সময় হয়।
জিজ্ঞাসা: মুহতারাম প্রধান মুফতী সাহেবের নিকট জানার বিষয় হল, এক. তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজের বিধান কী? দুই. মাকরুহ সময়ে এ নামাজ পড়া যাবে কী? তিন. মসজিদে প্রবেশ করার সাথেই কী এ নামাজ পড়া জরুরী? চার. কেউ যদি কোন ওজরের কারণে বারবার মসজিদে প্রবেশ করে, তো তার তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজের বিধান কী? দলিল সহ জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো। আল্লাহ আপনার সহায় হোন।
সমাধান: এক. তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ নফল। বিভিন্ন হাদীসে তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজের যে নির্দেশ পাওয়া যায় তা নফল বুঝানোর জন্য, ওয়াজীব নয়।
দুই. মাকরুহ সময়ে উক্ত নামাজ পড়া যাবে না। কারণ সকল ফকীহগণ একমত যে, তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ নফল। আর মাকরুহ সময়ে নফল নামাজ পড়া জায়েয নেই।
তিন. মসজিদে প্রবেশ করার সাথেই তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ পড়া জরুরী নয়। কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করার পর সাথে সাথে বসে পড়ে এরপর উক্ত নামাজ পড়ে বা মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বমূহুর্তে পড়ে তাহলেও তা আদায় হয়ে যাবে।
চার. কেউ যদি ওজরের কারণে বারবার মসজিদে প্রবেশ করে, তার সারাদিনে একবার উক্ত নামাজ পড়া যথেষ্ট। বারবার পড়া জরুরী নয়।
বি. দ্র. কেউ যদি মসজিদে প্রবেশ করে কোন ওয়াক্তিয়া নামাজের সুন্নাত পড়ে বা কোন ফরজ নামাজ পড়ে অথবা কোন ফরজ নামাজের ইচ্ছায় মসজিদে প্রবেশ করে তথাপিও তার তাহিয়্যাতুল মসজিদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে যদিও সে এ নামাজের নিয়ত না করে। আর মাকরুহ সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে মুসল্লির করণীয় হল, সে তাসবীহ, তাহলীল পড়তে থাকবে।
আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাহু (২/৮০), ফাতহুল কাদীর (১/২২৮), আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল (৪/২২৯)।
WhatsApp us