একজন অবিবাহিত ব্যক্তি যদি বলে যে, “আমি যদি হস্তমৈথুন করি, তাহলে ভবিষ্যতে আমি যাকে বিয়ে করব, সে তালাক হয়ে যাবে”— তাহলে ভবিষ্যতে তার বিয়ে করা স্ত্রীর উপর কি তালাক পতিত হবে?
1 Answer
**প্রশ্ন:**
একজন অবিবাহিত ব্যক্তি যদি বলে, “আমি যদি হস্তমৈথুন করি, তাহলে ভবিষ্যতে আমি যাকে বিয়ে করব, সে তালাক হয়ে যাবে”—এমন কথা বলার পর সে যদি সত্যিই ওই কাজটি (হস্তমৈথুন) করে ফেলে, তবে শরীয়তের বিধান কী? ভবিষ্যতে সে বিয়ে করলে কি আসলেই তার স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হবে?
**উত্তর:**
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
হানাফী ফিকহ অনুযায়ী, তালাককে কোনো শর্তের সাথে যুক্ত করা (তা’লীক) এবং ভবিষ্যতের বিয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা (ইযাফাত ইলাল মিলক) সম্পূর্ণরূপে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ব্যক্তিটি তার নিজের একটি কাজের (হস্তমৈথুন) শর্তের সাথে তার ভবিষ্যৎ স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয়টি যুক্ত করেছে। এর শরয়ী বিধান নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. শর্ত ভঙ্গ না করলে:
ওই ব্যক্তি যদি এই কথা বলার পর আর কখনোই উক্ত গুনাহের কাজটি (হস্তমৈথুন) না করে এবং পরবর্তীতে বিয়ে করে, তবে তার বিয়ে সম্পূর্ণ বৈধ থাকবে এবং স্ত্রীর ওপর কোনো তালাক পতিত হবে না।
২. শর্ত ভঙ্গ করলে:
যদি সে বিয়ের আগে ওই শর্তকৃত কাজটি করে ফেলে, তবে তার দেওয়া শর্তটি পূর্ণ হয়ে যাবে। এর ফলশ্রুতিতে শরীয়তের বিধান হলো—ভবিষ্যতে সে যখনই কোনো নারীকে বিয়ে করবে, বিয়ের আকদ (কবুল পড়া) সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই তার স্ত্রীর ওপর একটি ‘তালাকে বায়েন’ (Talaq-e-Bain) পতিত হয়ে যাবে এবং বিয়েটি তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে যাবে।
যেহেতু স্বামী-স্ত্রীর নির্জনবাস বা শারীরিক মিলনের আগেই (ক্বাবলদ দুখুল) এই তালাকটি পতিত হচ্ছে, তাই ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী এটি সরাসরি ‘তালাকে বায়েন’ হিসেবে গণ্য হবে। আর তালাকে বায়েন হওয়ার কারণে এখানে শুধুমাত্র মুখে ফিরিয়ে নেওয়ার (রুজু করার) কোনো সুযোগ থাকে না।
৩. শরয়ী সমাধান ও করণীয়:
যদি ওই ব্যক্তি শর্তটি ভেঙেই ফেলে, তবে পরবর্তীতে স্বাভাবিক সংসার করার জন্য তাকে বিয়ের দিন একটি বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। প্রথমবার স্বাভাবিক নিয়মে বিয়ের আকদ পড়ানোর সাথে সাথেই শর্ত অনুযায়ী এক তালাকে বায়েন পতিত হয়ে স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে।
এরপর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একত্রে সংসার করতে চাইলে, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সাথে সাথেই নতুন মোহরানা ধার্য করে নতুনভাবে পুনরায় তাদের বিয়ের আকদ (দ্বিতীয়বার বিয়ে/তাজদীদে নিকাহ) পড়াতে হবে। দ্বিতীয়বার আকদ পড়ানোর পর তারা সম্পূর্ণ হালালভাবে সংসার করতে পারবে। তবে সতর্ক থাকতে হবে যে, ওই স্বামীর জীবনে তালাকের অধিকার আর মাত্র ২টি অবশিষ্ট থাকবে।
সতর্কতা:
হস্তমৈথুন ইসলামে একটি অত্যন্ত গর্হিত ও কবিরা গুনাহ। এ থেকে বিরত থাকার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ও তওবা করা আবশ্যক। সেই সাথে, তালাকের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আবেগ বা রাগের বশবর্তী হয়ে এমন কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) তালাক ও বিয়ে নিয়ে খেলা বা ঠাট্টা করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।
**প্রামাণ্য গ্রন্থ ও দলিলসমূহ:**
১. ফাতাওয়ায়ে শামী (রদ্দুল মুহতার): খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৪৪-৩৪৫ (মাকতাবা যাকারিয়া, দেওবন্দ প্রকাশনী) – [অধ্যায়: বাবু আত-তা’লীক]।
২. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া (ফাতাওয়া আলমগীরী): খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪২০ (মাকতাবা রশীদিয়া প্রকাশনী) – [অধ্যায়: তা’লীকুত তালাক]।
৩. বাদায়েউস সানায়ে: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৩১ (দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ প্রকাশনী)।
আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।